কালিয়াকৈর পৌর নির্বাচনে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নুরুল ইসলাম সিকদার
আসন্ন কালিয়াকৈর পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা, হিসাব-নিকাশ ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা যাচাই। সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ও জনমুখী নাম হিসেবে উঠে এসেছে গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং কালিয়াকৈর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব মোঃ নুরুল ইসলাম সিকদারের নাম। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, জনসম্পৃক্ততা এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের কারণে তিনি বর্তমানে পৌর এলাকার ভোটারদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন মহলের মতে, কালিয়াকৈর পৌরসভার সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে নুরুল ইসলাম সিকদার একজন পরীক্ষিত ও গ্রহণযোগ্য নেতা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত থেকে দল ও জনগণের জন্য কাজ করে আসছেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি কালিয়াকৈর উপজেলা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক, কালিয়াকৈর পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, গাজীপুর জেলা বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ও সহ-সভাপতির দায়িত্ব সফলতার সঙ্গে পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং কালিয়াকৈর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায়ও রয়েছে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। মৌচাক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি এলাকার সড়ক উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংস্কার, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে তিনি জনগণের সুখ-দুঃখে পাশে থেকে একজন জনবান্ধব জনপ্রতিনিধি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
পৌর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, “নুরুল ইসলাম সিকদার দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে রয়েছেন। তিনি সুখে-দুঃখে মানুষের খোঁজখবর নেন। দল যদি তাঁকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবির বলেন, “কালিয়াকৈরের উন্নয়নের জন্য একজন অভিজ্ঞ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব প্রয়োজন। নুরুল ইসলাম সিকদারের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি মেয়র নির্বাচিত হলে পৌরসভার উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।”
যুব ভোটার রাকিব হোসেন বলেন, “তরুণদের কর্মসংস্থান, খেলাধুলা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে তিনি সবসময় ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন। তরুণ সমাজ তাঁর নেতৃত্বে নতুন সম্ভাবনা দেখতে পায়।”
নারী ভোটার রাশিদা বেগম বলেন, “তিনি সাধারণ মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন। একজন জনপ্রতিনিধির মধ্যে যে মানবিক গুণ থাকা দরকার, তা তাঁর মধ্যে রয়েছে। মেয়র হলে পৌরবাসী উপকৃত হবে বলে আমরা আশা করি।”
স্কুলশিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে তাঁর ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে। একজন অভিজ্ঞ জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি কালিয়াকৈর পৌরসভাকে একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত নগরীতে রূপ দিতে পারবেন।”
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি, দলের দুঃসময়ে মাঠে থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন নুরুল ইসলাম সিকদার। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, মামলা-হামলা এবং নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও তিনি নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন। ফলে তৃণমূল পর্যায়ে তাঁর প্রতি ব্যাপক সমর্থন ও আস্থা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে আলহাজ্ব মোঃ নুরুল ইসলাম সিকদার বলেন, “আমি সবসময় জনগণের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের সেবা এবং দলের জন্য কাজ করেছি। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় এবং পৌরবাসী তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেন, তাহলে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন ও নাগরিকবান্ধব পৌরসভা গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করব। উন্নয়ন, সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং জনগণের কল্যাণই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, “কালিয়াকৈর পৌরসভাকে একটি মডেল পৌরসভায় রূপান্তর করতে চাই, যেখানে নাগরিক সেবা হবে সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ। আমি পৌরবাসীর দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন কামনা করছি।”
আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। তবে স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জনপ্রিয়তা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং জনসম্পৃক্ততার দিক থেকে বর্তমানে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন আলহাজ্ব মোঃ নুরুল ইসলাম সিকদার।