টঙ্গীতে এক মাদ্রাসার ১৩ শিক্ষার্থী বহিস্কার জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
শিল্প নগরী টঙ্গীর আরিচপুর এলাকার জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার দাওরা হাদিস বিভাগের ১৩ জন শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের খবর পাওয়া গেছে।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে আনুষ্ঠানিক ভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করেন মাদ্রাসা কতৃপক্ষ।
ঘটনাটি জানাজানির পর এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন, মারুফ হাসান নাহিদ, হাসান আলী, মুহাম্মাদুল্লা, উমর ফারুক, আল আমীন, মুহাম্মাদ, ফেরদাউস, মাহদী হাসান নাঈম, আবুল কালাম, রিয়াজুল ইসলাম, নাজিরুল ইসলাম, হাসিবুল হাসান ও শরিফুল ইসলাম।
জানা যায়, গত কিছুদিন যাবৎ মাদ্রাসায় মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনুমতির দাবিতে দাওরা হাদিস বিভাগের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে আসছিল। কর্তৃপক্ষ তাদের দাবি পূরণ না করায় ক্লাশরুমে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। এই ঘটনায় ওস্তাদের সাথে বেয়াদবি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে এই কওমি মাদ্রাসার দাওরা হাদিস বিভাগের ১৩ জন শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। ওই বিভাগে ১৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪ জন শিক্ষার্থী পূর্বেই প্রতিষ্ঠান ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। ফলে বর্তমানে দাওরা হাদিস বিভাগ শিক্ষার্থী শূন্য হয়ে গেছে।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা জাকির হোসেন বলেন, ১৮ এপ্রিল শনিবার সকালে প্রতিষ্ঠানের দাওরা হাদিস শাখার সকল শিক্ষার্থী বিভিন্ন অনৈতিক দাবিতে ওস্তাদদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। কওমি মাদ্রাসার প্রচলিত নীতিমালায় মোবাইল ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ থাকায় তাদের এই দাবি অনৈতিক ও শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়। পরবর্তীতে সন্ধ্যার দিকে তারা মাদ্রাসার দ্বিতীয় তলায় দাওরা হাদিস বিভাগের ক্লাসরুমে তালা লাগিয়ে মাদ্রাসা ত্যাগ করে, যা প্রতিষ্ঠানের নিয়ম-শৃঙ্খলার পরিপন্থী। শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসায় মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনুমতি আদায়ের লক্ষ্যে এ ধরনের আচরণ করে। এ ঘটনার পর মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষকবৃন্দ ও পরিচালনা কমিটির সদস্যরা আজ দুপুরে জরুরি বৈঠকে বসে সর্বসম্মতিক্রমে দাওরা হাদিস বিভাগের ১৩ জন শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেন।
অপরদিকে এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানালেও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা জীবন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বেশীর ভাগ বাসিন্দারা।